বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

রোজায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা নিয়ে একি জানা গেল

রাব্বি মল্লিক / ৫০৪ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
রোজায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা নিয়ে একি জানা গেল

মানুষ তার নিজের মতো করে মত প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক।শিক্ষকরাও মানুষ। সংবিধানের ৩৯(২)(ক)অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের বলার ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।তাহলে কেন মানুষের কন্ঠরোধ করা হচ্ছে।

অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংগতি রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও রমজানের ছুটি বহাল রাখার দাবিতো যৌক্তিক দাবি।অনেকে বলছেন দুই বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ছিল।তাদের বলি হ্যা বন্ধ ছিল এর জন্য কে দায়ী?শিক্ষক?শিক্ষার্থী?কেউ দায়ী না ।অতিমারী দায়ী

এরপরেও শিক্ষকরা ছুটির কয়েকমাস পর থেকেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্কশীট বিতরণ,মূল্যায়ণ,প্রথমে জুম তারপর গুগল মিটের মাধ্যমে অনলাইন পাঠদান,অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ,মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খোজ নেওয়ার পাশাপাশি ১৫ মিনিটের পাঠদান,আজ একটা পরিপত্র কাল একটা পরিপত্র ।এ যেন পরিপত্র বিভাগ(প্রাগম)বিদ্যালয় খোলার পর থেকে তো আরেক ইতিহাস শুরু হয়েছে।

দুই দিন পর পর ক্লাস রুটিন তৈরী আর পরিবর্তন।দৈনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও তথ্য রেজিষ্টার খাতায় হালফিলকরণ ,দৈনিক উপস্থিতি তথ্য ক্লাস শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে সাবমিটকরণ,স্যানিটাইজ করা ছাড়াও আরো কত কি এরপর রইল বিরতিহীন একটানা ক্লাস।

বেশীর ভাগ প্রাইমারী স্কুলে পিয়ন নেই এবং শিক্ষক সংখ্যাও কম (২,৩,৪)তারপরও সাপ্তাহিক মূল্যায়ণ তো আছেই।শিশুরা ক্লাস করতে করতে বিরক্ত হয়ে গেছে আর শিক্ষকরা হয়ে গেছে ক্লান্ত।১০দিনের কাজ একদিনে করাতে চাইলে যা হয় আর কি!!!!

বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে ৪:১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সময়সূচী আর শ্রেণিপাঠদান বিরতিহীন ৯:১৫-৪:১৫ পর্যন্ত এর মাঝে ১২:০০-১২:১৫ এবং ১:২৫ -১:৫৫ (টিফিন) ছাড়া বিরতিহীন ক্লাস। শিশুদের খেলার কোনো ব্যবস্থা নেই ।নেই শিক্ষকদের ক্লাস বিরতি।এর মধ্যেই দেশে তাপদাহ চলছে।

এর মধ্যেই শুরু হলো নতুন করে শিশুদের উপবৃত্তির কাজ ১৭ কলামে এক্সেল শীটে ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে পূরণ করার কাজ।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঠদান করবে কখন আর এত্তো এত্তো কাজ করবে কখন?এগুলো দেখার কেউ নাই

সবাই পরিপত্র নিয়ে ব্যস্ত।শিশুদের ক্লাস করানো যে কত কষ্ট সেটা যারা করে তারাই শুধু বুঝে।সেজন্য অফিসের কাজ করার জন্য কেরানী নিয়োগদান এখন সময়ের দাবি।

সাথে সাথে শিক্ষক পোস্ট বাড়াতে হবে।শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করাবেন কোনো রকম বাড়তি চাপ আর অফিসিয়াল কাজ ছাড়াই।এগুলো সংস্কারের তো কোনো খবর নাই ।অথচ কয় দিন পর পর পরিপত্র এই পরিপত্র সেই পরিপত্র ইত্যাদি।

রমজানে রোজা রেখে শিশুদের পাঠদান করানো অত্যন্ত দূরুহ কাজ।সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি রমজানের ছুটি বহাল থাকে তাহলে প্রাথমিকেও বহাল রাখতে হবে ।এটা যৌক্তিক দাবি।শিখন ঘাটতি যদি হয় তাহলে তো সবারই হয়েছে শুধু প্রাথমিক কেন?

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
x
x